ঢাকার লোকাল বাস: সিটিং এবং নন-সিটিং সার্ভিসের মধ্যে পার্থক্য
সিটিং সার্ভিস আর নন-সিটিং বাসের মধ্যে কী পার্থক্য? কোন বাসে যাতায়াত করা আপনার জন্য বেশি সুবিধাজনক হতে পারে তা জেনে নিন।
ঢাকার রাস্তায় বের হলেই দুই ধরনের বাসের দেখা মেলে— সিটিং সার্ভিস এবং নন-সিটিং বা লোকাল বাস। অনেকেই দ্বিধায় থাকেন কোন বাসে যাতায়াত করা ভালো হবে। চলুন জেনে নিই এই দুই সার্ভিসের মধ্যে মূল কিছু পার্থক্য:
১. সিট এবং যাত্রী সংখ্যা:
সিটিং সার্ভিসের মূল উদ্দেশ্য হলো বাসের প্রতিটি সিটে একজন করে যাত্রী নেওয়া। সাধারণত এই বাসগুলোতে অতিরিক্ত যাত্রী দাঁড় করিয়ে নেওয়া হয় না। অন্যদিকে, নন-সিটিং বা সাধারণ লোকাল বাসে সিটের তুলনায় অনেক বেশি যাত্রী দাঁড় করিয়ে নেওয়া হয় এবং অনেক ভিড় থাকে।
২. ভাড়া এবং টিকিট:
সিটিং সার্ভিসে সাধারণত সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে সামান্য বেশি ভাড়া রাখা হয়, কারণ তারা আসন সংখ্যার বেশি যাত্রী নেয় না। তবে অনেক বাসেই এখন ই-টিকিটিং চালু হওয়ায় ভাড়ার ক্ষেত্রে অনেক স্বচ্ছতা এসেছে। লোকাল বাসের ভাড়া তুলনামূলকভাবে কম হয়ে থাকে।
৩. বাসের স্টপেজ বা থামা:
সিটিং সার্ভিসগুলো নির্দিষ্ট স্টপেজ ছাড়া খুব একটা থামে না, যার কারণে একটু দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানো যায়। কিন্তু সাধারণ লোকাল বাসগুলো রাস্তার যেকোনো জায়গা থেকে যাত্রী তোলে এবং নামায়, যার ফলে এতে সময় বেশি লাগে।
৪. আরাম ও স্বাচ্ছন্দ্য:
সিটিং বাসগুলোতে ভিড় কম থাকায় কিছুটা আরাম করে বসে যাওয়া যায়। অফিসগামী মানুষ বা একটু দূরের যাত্রীদের জন্য এটি ভালো অপশন। অন্যদিকে লোকাল বাসে অনেক বেশি ভিড় থাকে এবং আরামের সুযোগ বেশ কম থাকে।
আপনার গন্তব্য যদি দূরে হয় এবং হাতে একটু বেশি বাজেট থাকে, তাহলে সিটিং বাসে যাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। আর যদি অল্প দূরত্বে কম ভাড়ায় যেতে চান, তবে লোকাল বাস আপনার জন্য ভালো বিকল্প হতে পারে।